সাগর দিঘী বা কমলারাণীর দিঘী

0
24

এশিয়ার বৃহত্তম গ্রাম বানিয়াচং

ঐতিহাসিক সাগর দিঘীঃ ঐতিহাসিক সাগর দিঘী বা কমলারাণীর দিঘীর নাম শুনেননি এমন লোকের সংখ্যা বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। এর আয়তন প্রায় ৬৫ একর, বানিয়াচং রাজধানীর প্রতিষ্ঠাতা কেশব মিশ্রের অধঃস্তন পুরুষ রাজা পদ্মনাভ এই বিশাল দিঘী খনন করান। প্রজাদের জলতেষ্টা নিবারণের লক্ষ্যে এই দিঘী খনন করা হয়। জনশ্রুতি আছে, দিঘী খননের পর যখন ঐ দিঘীতে পানি উঠেনি তখন রাজা পদ্মনাভের কাছে দৈববাণী আসে -‘পদ্মনাভ, তোমার ঐ দিঘীতে জল উঠবে না, যে পর্যন্ত না রাজ পরিবারের কোন সতীসাধ্বী এই দিঘীতে আত্মত্যাগ করবে’। পরপর তিনদিন স্বপ্ন দর্শনে ঐ বাণী আসার পর ঘটনাটি তিনি রাণী কমলাবটিকে খুলে বলেন। রাণী সঙ্গে সঙ্গে নিজে আত্মত্যাগ করার পূর্ণ বাসনা ব্যক্ত করেন রাজার কাছে। রাণী ডুবে যাওয়ার পর বেশ কিছুকাল পর্যন্ত গভীর রাতে সোনার নৌকা, সোনার বৈঠা হাতে তাকে দিঘীর চারপাশে ঘুরে বেড়াতে দেখা যেত বলে জনশ্রুতি রয়েছে।

ঐতিহাসিক সাগর দিঘিঃ

প্রায় দ্বাদশ শতাব্দিতে রাজা পদ্মনাভ প্রজাদের জলকষ্ট নিবারণের জন্য বানিয়াচং গ্রামের মধ্য ভাগে এ দিঘিটি খনন করেন। এ দিঘি খননের পর পানি না উঠায় স্বপ্নে আদিষ্ট হয়ে রাজা পদ্মনাভের স্ত্রী রাণী কমলাবতী এ দিঘিতে আত্ম বিসর্জন দেন বলে একটি উপাখ্যান এ অঞ্চলে প্রচলিত আছে। এ জন্য এ দিঘিকে কমলা রাণীর দিঘিও বলা হয়ে থাকে। এ দিঘি নিয়ে বাংলা সিনেমাসহ রেডিও মঞ্চ নাটক রচিত হয়েছে। এর পাড়ে বসে পল্লী কবি জসিম উদ্দিন ‘রাণী কমলাবতীর দিঘি’ নামে একটি কবিতা রচনা করেছিলেন। সে কবিতাটি তাঁর ‘সূচয়নী’ কাব্য গ্রন্থে অন্তর্ভূক্ত রয়েছে। এ দিঘিটি বাংলা দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম দিঘি  বলে খ্যাতি রয়েছে। ১৯৮৬ সালে দিঘিটি পুনঃ খনন করান ঐ গ্রামেরই সুনামধন্য তৎকালীন মৎস্য ও পশুপালন মন্ত্রী সিরাজুল হোসেন খাঁন। বর্তমানে ৬৬.০০ একর জায়গা নিয়ে দিঘিটি বিস্তৃত। তম্মধ্যে জল সীমানা রয়েছে ৪০.০০ একর এবং চার পাড় মিলে রয়েছে ২৬.০০ একর। ঐ  চার পাড়ে দিনাজপুরের রামসাগরের আদলে পর্যটন পার্ক তৈরী করা হলে আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে বলে অনেক পর্যটকই মতামত রেখে থাকেন। বর্তমানে এ দিঘিটি সরকার মৎস্য চাষের আওতায় এনে লিজ দিয়ে বছরে  উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব আয় করছে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here