Wednesday , 17 October 2018
এই মূহুর্তেঃ-

দর্শনীয় স্থান

বিথঙ্গল আখড়া

বিথঙ্গল আখড়া বৈষ্ণব্ধর্মালম্বীদের জন্য অন্যতম তীর্থস্থান এই আখড়া বানিয়াচং উপজেলা সদর থেকে ১২ কি.মি. দক্ষিণ-পশ্চিম হাওড় পাড়ে বিতঙ্গল গ্রাম অবস্থিত। এর প্রতিষ্ঠাতা রামকৃষ্ণ গোস্বামী। তিনি উপমহাদেশের বিভিন্ন তীর্থস্থান সফর শেষে ষোড়শ শতাব্দীতে ঐ স্থানে আখড়াটি প্রতিষ্ঠা করেন। এতে ১২০ জন বৈষ্ণবের জন্য ১২০ টি কক্ষ রয়েছে। এ আখড়ায় বিভিন্ন ধরণের ধর্মীয় উৎসব হয়। এর মধ্যে কার্তিকের শেষ দিনে ভোলা সংক্রান্তি উপলক্ষে কীর্তন, ফাল্গুনের পূর্ণিমা তিথিতে দোল পূর্ণিমার ৫ দিন পর পঞ্চম দোল উৎসব, চৈত্রের অষ্টমী তিথিতে আখড়া সংলগ্ন ভেড়ামোহনা নদীর ঘাটে ভক্তগণের পূণ্যস্নান ও বারুনী মেলা, আষাড় মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে রথযাত্রা উল্লেখযোগ্য। আখড়ার দর্শনীয়  স্থানস্মূহের মধ্যে ২৫ মণ ওজনের শ্বেত পাথরের চৌকি, পিতলের তৈরি সিঙ্ঘাসন, সুসজ্জিত রথ, রৌপ্য পাত্র ও সোনার মুকুট উল্লেখযোগ্য। মধ্যযুগীয় স্থাপত্যশৈলীর অনুকরণে নির্মিত এই আখড়াটি পর্যটকদের জন্য দর্শনীয় স্থান।

 

রেমা ক্যালেঙ্গা

রেমা ক্যালেঙ্গা বন্য প্রানী অভয়ারণ্য

 

রেমা ক্যালেঙ্গা বাংলাদেশের এক নয়নাভিরাম স্থানের নাম রেমা-কালেঙ্গা। এ নৈসর্গিক দৃশ্য না দেখলে কারো উপলব্ধির সুযোগ নেই-এ স্থানটি কি রকম ! হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার রেমা-কালেঙ্গা বনাঞ্চল ১৪ হাজার ৬শ ৩২ একর জমি নিয়ে গড়ে উঠা এই বনাঞ্চলের বয়স প্রায় ১শ বছর। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এ বনাঞ্চলে রয়েছে ৩৭ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ১৬৭ প্রজাতির পাখি, ৭ প্রজাতির উভচর, ১৮ প্রজাতির সরিসৃপ, বিলুপ্ত প্রায় উতবা, কাইম, বনমোরগ, বানর, হনুমান , হরিণ, সাপ, মৌমাছি, চশমা বানরসহ ৬০ প্রজাতির বন্যপ্রাণী এবং ৬৩৮ প্রজাতির উদ্ভিদ। নয়নাভিরাম ছোট-বড় পাহাড়, টিলা ও ১টি লেক, ২শ ফুট উঁচু পর্যবেন টাওয়ার যা পর্যটকদের খুব সহজেই আকৃষ্ট করতে পারে। সেখানে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার বিশ্রামাগার আছে। করাঙ্গী নদীর উপর ব্রীজ না থাকায় বর্ষা কালে কালেঙ্গা পৌছতে একটু বিলম্ব হয়।

 

এশিয়ার বৃহত্তম গ্রাম বানিয়াচং

এশিয়ার বৃহত্তম গ্রাম বানিয়াচং এর অভাজন

 


Baniachungভূমিকাঃ এশিয়ার সর্ববৃহৎ গ্রাম বানিয়া চং। ইতিহাস ও ঐতিহ্যগত দিক থেকে গ্রামটি সুপ্রাচীন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বহু জ্ঞানীগুনীদের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃত। আজ থেকে প্রায় বারো’শ বছর পূর্বে বানিয়াচং রাজ্যের প্রতিষ্ঠা হয়েছে বলে ঐতিহাসিকগণ মনে করেন। উল্লেখ্য, এককালে বানিয়াচং ছিল তৎকালীন লাউড় রাজ্যের রাজধানী। প্রাচীনকালে বৃহত্তর সিলেট জেলা চারটি রাজ্যে বিভক্ত ছিল। যেমন- লাউড়, গৌড়, রাজপুর (তরপ) ও জৈন্তা। তুলনামূলকভাবে লাউড় রাজ্য ছিল জৈন্তা ও গৌড় রাজ্য থেকে আয়তনে অনেক বড়। সপ্তম শতাব্দীতে এই তিনটি রাজ্য ছিল কামরূপরাজ গুহকের শাসনাধীন। রাজা গুহকের মৃত্যুর পর তিন পুত্র যথাক্রমে- গুড়ুক, জয়ন্তক, লড্ডুক এর মধ্যে রাজ্য ভাগ হয়ে যায়। লড্ডুক এর অংশে পরে লাউড় রাজ্যের শাসনভার। বর্তমানে বানিয়াচং যদিও উপজেলা সদর তথাপি বানিয়াচং এর মানুষজন এ-কে গ্রাম বলে সম্বোধন করতেই গর্ববোধ করেন। বানিয়াচং কে কেউ বলে থাকেন পল্লীরাজ কেউবা বলেন মহাগ্রাম।

ভৌগোলিক বিবরণঃ পল্লীরাজ বা মহাগ্রাম বানিয়াচং হবিগঞ্জ জেলা শহর থেকে প্রায় আঠারো কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে এবং কিশোরগঞ্জ সীমান্ত থেকে বার কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত। জনাব আতাউর রহমান তাঁর বানিয়াচং থানা প্রসঙ্গে লিখেছেন, হবিগঞ্জ শহর থেকে বানিয়াচং ২৫ কিলোমিটার দূরে কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা ভিত্তিহীন।

সীমানাঃ উত্তরে সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই, শাল্লা ও হবিগঞ্জ জেলার আজমিরীগঞ্জ। দক্ষিণে হবিগঞ্জ সদর ও দক্ষিণ-পশ্চিমে লাখাই, পূর্বে হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ ও বাহুবল ও পশ্চিমে কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা ও মিটামইন উপজেলা। বানিয়াচং গ্রামের দু পাশে খাল,বিল, হাওড়ে পরিবেষ্টিত। এখানে দো-আঁশ মাটি শতকরা ৭৫ ভাগ, বেলে মাটি শতকরা ১০ ভাগ, এঁটেল মাটি ও কঙ্কর শতকরা ১৫ ভাগ। বর্ষাকালে গ্রামটি যেন বিশাল পানিরাশির মাঝখানে সুউচ্চ সবুজ-শ্যামল একটি ভাসমান সৌন্দর্যমন্ডিত দ্বীপ ঢেউয়ের তালে নাগরদোলায় দুলছে। অসংখ্য পালতোলা নৌকা ছুটে চলেছে আপনমনে আর সেইসাথে এখনও ভেসে আসে মাঝিমাল্লাদের ভাটিয়ালী গানের সুর।

 আয়তনঃ মহাগ্রাম বানিয়াচং এর আয়তন বর্তমানে দৈর্ঘে প্রায় ৬.৫ কিলোমিটার এবং প্রস্থে প্রায় ৪.৫ কিলোমিটার। গ্রামের চতুর্দিকে পরিবেষ্টিত (বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য নির্মিত) গড়ের খাল নামে পরিচিত একটি খাল এখনও যার নিদর্শন রয়েছে। গ্রামের চতুর্দিকে রয়েছে আবার সড়কপথ। গ্রামের ভিতরে রয়েছে শতাধিক কাঁচা-পাকা রাস্তা। এই মহাগ্রামটিকে চারটি ইউনিয়ন পরিষদ দ্বারা ভাগ করা হয়েছে। যেমন- ১নং উত্তর-পূর্ব ইউ.পি বানিয়াচং, ২নং উত্তর-পশ্চিম ইউ.পি বানিয়াচং, ৩নং দক্ষিন-পূর্ব ইউ.পি বানিয়াচং এবং ৪নং দক্ষিণ-পশ্চিম ইউ.পি বানিয়াচং।

জনসংখ্যা ও শিক্ষার হারঃ মহাগ্রাম বানিয়াচং এর জনসংখ্যা প্রায় এক লক্ষ সত্তর হাজার। পল্লীরাজে শিক্ষার হার প্রায় শতকরা ৬০ ভাগ। এখানে সনাতন ধর্মালম্বী লোকদের মধ্যে ব্রাহ্মন থেকে চন্ডাল পর্যন্ত সকল বর্ণ বা গোত্রের লোক বসবাস করে বিধায় এ-কে নবসোনার দেশ বলা হয়ে থাকে। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এই গ্রামের শতকরা ৮২ ভাগ মুসলিম। এবং শতকরা ১৮ জন সনাতনী। ৬ থেকে ১০ বছরের শিশুর সংখ্যা প্রায় ১৫ থেকে ১৮ শতাংশ।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মসজিদ-মন্দিরঃ এখানে ঊনিশটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দশটি বেসরকারি রেজিষ্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুইটি সরকারি হাই স্কুল, বেসরকারি হাই স্কুল চারটি, কিন্ডারগার্টেন চারটি, এবতাদায়ী মাদ্রাসা বারটি, আলীম ও দাখিল মাদ্রাসা তিনটি, তিনটি কলেজ, রামকৃষ্ণ মিশন একটি, শতাধিক মসজিদ ও অনেকগুলো মন্দির রয়েছে।

সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানঃ  সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সংখ্যা  প্রায় ২৭ টি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য নিবেদন সাংস্কৃতিক পরিষদ, বাসনা শিল্পী গোষ্ঠী, বানিয়াচং থিয়েটার, জাগ্রত সংসদ, অনির্বাণ যুব সংসদ, স্মরণীকা স্মৃতি সংঘ, মিতালী সংঘ, কিশোর সংঘ, শহীদ সায়ীদুল হাসান পাঠাগার, আদর্শ গণকেন্দ্র পাঠাগার, বাহাউদ্দিন পাঠাগার, উপজেলা সদর পাঠাগার, ব্র্যাক গণকেন্দ্র পাঠাগার, মোহাম্মদীয়া পাঠাগার ইত্যাদি।

হাট-বাজারঃ বানিয়াচং গ্রামে রয়েছে পাঁচটি দৈনন্দিন বাজার। যথাক্রমে- বড়বাজার, গ্যানিংগঞ্জ বাজার, ৫/৬ নং বাজার, আদর্শ বাজার, বাবুর বাজার।

রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বঃ এককালে বানিয়াচং ছিল রাজনীতির বিশাল পাদপীঠ। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও দেশপ্রেমিকদের মাঝে যাঁদের নাম উল্লেখ না করলেই নয় তারা হলেন সর্বজনাব আবুল হোসেন খান, খান সাহেব, নুরুল হোসেন খান, এমপি এমএনএ, হেম সেন, সুশীল সেন, সিরাজুল হোসেন খাঁন (মন্ত্রী), গাজী আব্দুল করিম খান, কাজী মাহতাব খান, জনাব আলী এমপি, গোপাল কৃষ্ণ মহারত্ন এমপি, শরীফ উদ্দিন আহমেদ এমপি, মৌলভী আব্দুল্লাহ, আব্দুল মালিক খান, মাজুম উল্লাহ, আহসান উল্লাহ, আব্দুস সালাম খান, আমির হোসেন সহ শতাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।

ঐতিহাসিক সাগর দিঘীঃ ঐতিহাসিক সাগর দিঘী বা কমলারাণীর দিঘীর নাম শুনেননি এমন লোকের সংখ্যা বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। এর আয়তন প্রায় ৬৫ একর, বানিয়াচং রাজধানীর প্রতিষ্ঠাতা কেশব মিশ্রের অধঃস্তন পুরুষ রাজা পদ্মনাভ এই বিশাল দিঘী খনন করান। প্রজাদের জলতেষ্টা নিবারণের লক্ষ্যে এই দিঘী খনন করা হয়। জনশ্রুতি আছে, দিঘী খননের পর যখন ঐ দিঘীতে পানি উঠেনি তখন রাজা পদ্মনাভের কাছে দৈববাণী আসে -‘পদ্মনাভ, তোমার ঐ দিঘীতে জল উঠবে না, যে পর্যন্ত না রাজ পরিবারের কোন সতীসাধ্বী এই দিঘীতে আত্মত্যাগ করবে’। পরপর তিনদিন স্বপ্ন দর্শনে ঐ বাণী আসার পর ঘটনাটি তিনি রাণী কমলাবটিকে খুলে বলেন। রাণী সঙ্গে সঙ্গে নিজে আত্মত্যাগ করার পূর্ণ বাসনা ব্যক্ত করেন রাজার কাছে। রাণী ডুবে যাওয়ার পর বেশ কিছুকাল পর্যন্ত গভীর রাতে সোনার নৌকা, সোনার বৈঠা হাতে তাকে দিঘীর চারপাশে ঘুরে বেড়াতে দেখা যেত বলে জনশ্রুতি রয়েছে।

বানিয়াচং এর নামকরণঃ বানিয়াচং এর নামকরণ নিয়ে বিভিন্ন লেখকগণ বিভিন্ন ভাবে তাঁদের লেখনীশৈলীর মাধ্যমে উপস্থাপিত করেছেন। শ্রী অনাদিচরন বিশ্বাস তাঁর বানিয়াচং কাহিনী গ্রন্থে লিখেছেন, ‘ বিনায়ে জং থেকে বানিয়াচং গ্রামের উৎপত্তি’। ১২শ শতাব্দীর প্রথমদিকে কনৌজ শহর থেকে রাজা কেশব মিশ্র তাঁর সমস্ত কিছু বিক্রি করে আত্মীয়-স্বজন, সৈন্য-সামন্ত নিয়ে পূর্ব বাংলায় আসার জন্য রওয়ানা হয়ে বংশিপ্যা নামক এক ক্ষুদ্র পল্লীতে এসে উপস্থিত হন। তথায় গোপীচাঁদ নামক এক হিন্দু রাজা রাজত্ব করতেন। যখন কেশব মিশ্র বং এর নিকট উপস্থিত হন। তখন বং এর রাজা গোপীচাঁদ তার সমস্ত সৈন্য নিয়ে কেশব মিশ্রের আগমণে বাঁধা দেন। উভয়ের মাঝে তুমুল যুদ্ধ বাঁধে। যুদ্ধে গোপীচাঁদ পরাস্থ ও নিহত হন। কেশব মিশ্র কুলীন ব্রাহ্মন। তিনি প্রথম যে স্থানে উপস্থিত হয়েছিলেন সেই স্থানের নাম বিনায়ে জং শব্দের ক্রমবিবর্তনে বানিয়াচং রূপ লাভ করেছে’। নামকরণের আরেকটি ভিন্ন মত পরিলেক্ষিত হয়। বানিয়াচং নামটি এসেছে ‘বানিয়া’ এবং ‘চাং’ এ দুটো শব্দের ক্রমবিবর্তন থেকে। কথিত আছে, ‘এখানে প্রাচীনকালে পুটিয়া নামক এক বিরাট বিল ছিল। বানিয়া নামের এক শিকারী চাং(মাচাং) বেঁধে ঐ স্থানে শিকার করত। ঐ স্থানটি বানিয়ার চাং নামে মশহুর হয়। পরবর্তীতে এটিই হয় বানিয়াচং’। (ঐতিহাসিক বানিয়াচং ও কিংবদন্তী, পৃষ্ঠা-১১)।

জনশ্রুতি ও কিংবদন্তীতে আমরা যা পাই তা হল- এককালে বানিয়াচং গ্রাম অঞ্চলটি পুটিয়া বিল নামক বিরাট জলাশয়ে নিমগ্ন ছিল। কথিত আছে যে, জনৈক ব্রাহ্মন বণিক বাণিজ্য উপলক্ষে নৌকা বোঝাই করে এতদঞ্চলে, বাণিজ্য উপকরণ নিয়ে আসেন। নৌকার মূল চালক ছিল একজন চঙ্গ অর্থাৎ চন্ডাল বা নমঃশূদ্র/চাড়াল। দৈবাদেশে তিনি কালীপুজা শেষে একটি উঁচু মাটির ঢিবির উপরে কালীমুর্তি রেখে যান এবং বণিক বা বানিয়া এবং চন্ডাল বা ‘চঙ্গ’ নামের সমন্বয়ে এর নামকরণ করা হয় বানিয়াচঙ্গ বা বানিয়াচং। আবার কারো কারো মতে, পূর্বোক্ত পুটিয়া বিলে শিকারীগণ মাচাঙ্গ বেঁধে পাখি শিকার করতো এবং পাখিগুলো অন্যত্র বিক্রয়ের ব্যবসা করতো, তাই বানিয়া অর্থ ব্যবসায়ী এবং শিকারীর চঙ্গ অর্থ চাঙ্গঁ বা মাচাঙ্গঁ উভয় শব্দের সংমিশ্রনে বানিয়াচং শব্দের উৎপত্তি।

মোঃ শাহজাহান বিশ্বাসের ‘বানিয়াচং এর ইতিবৃত্ত; ইতিহাস ও কিংবদন্তী’ তে সমালোচনা করেছেন এভাবে যে-“ বানিয়াচঙ্গে বহু প্রাচীন কাল থেকেই হিন্দু সম্প্রদায়ের অধিক প্রভাব ছিল এ কারণেই সম্ভবত হিন্দু লেখকগণ তাঁদের সম্প্রদায়ের সামগ্রিক প্রভাবকে চিত্রিত করেছেন “.

পক্ষান্তরে, মোগল আমলে মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রভাবের কারণে ‘ বিনায়ে জং’ ফারসী শব্দের অবতারণা করে বানিয়াচং নামকরণ করে হিন্দু-মুসলিম প্রতিযোগীতায় হার-জিতের চিত্রই মুসলিম লেখকগণ চিত্রিত করার প্রয়াস নিয়েছেন”।

কেশব মিশ্র কুলীন ব্রাহ্মন হয়ে ফারসী শব্দ ব্যবহার করে বানিয়াচং এর নামকরন করা কতটা যুক্তিযুক্ত তা পাঠক ভাল করে বুঝে নিবেন। পক্ষান্তরে, বণিক বা বাণিয়ার নামের সাথে চঙ্গ বা চন্ডাল/চাড়ালের নাম সংযুক্ত করে বানিয়াচং এর নামকরন করা কতটা যুক্তিযুক্ত তাও প্রশ্নের বাইরে নয়।

মূলকথা বানিয়াচং পল্লীরাজ কিংবা মহাগ্রামের নামকরণের প্রকৃত তথ্য এখনও উদঘাটিত হয়নি।

মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাঃ  স্বাধীনতাকামী বানিয়াচংবাসী সর্বসময়ে স্বাধীনভাবে বসবাস করার প্রমাণ আমরা পেয়েছি মধ্যযুগীয় শাসনামলে আনোয়ার খাঁ কর্তৃক মোগলদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা থেকে শুরু করে। ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে সারা বাংলার ন্যায় বানিয়াচং বাসীও ঝাঁপিয়ে পড়ে পাক-হায়নাদের বিরুদ্ধে। মুক্তিযুদ্ধের দ্বিতীয় সর্বাধিনায়ক এমএ রব ও এই বানিয়াচং এর সন্তান। স্বাধীনতা আন্দোলনে বানিয়াচংবাসী যে কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছে তা সর্বজন স্বীকৃত। বানিয়াচং এর উল্লেখযোগ্য মুক্তিযোদ্ধারা হলেন – আর.সি পান্ডে(দুলন), নাজমুল হোসেন খান লুকু, আব্দুস সালাম খান, সালেহ উদ্দীন খান বুলবুল, জালালউদ্দিন খান বাবুল, হায়দুরুজ্জামান খান ধন মিয়া, আব্দুল আওয়াল চৌধুরী, মোহাম্মদ আলী মুমিন, আমির হোসেন, এম.এ খালিক প্রমূখ।

সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য,খেলাধুলা ও গুণি ব্যক্তিত্বঃ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের দিক থেকে বানিয়াচং সুপ্রাচীন কাল থেকেই সমৃদ্ধ। মধ্যযুগের শাসনামলের বিখ্যাত কবি ও বাউল শিল্পী মনসুর বয়াতী বানিয়াচং পরগনার অধিবাসী বলে জানা যায়। ড. দীনেশ চন্দ্র সেন ময়মনসিংহ গীতিকা যে অঞ্চলের লোকগাঁথা নিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন তার মধ্যে অধিকাংশ লোক-সাহিত্যের অংশই তিনি বানিয়াচং থেকে সংগ্রহ করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল- সুরত জামাল ও অধুয়া সুন্দরীর প্রেমকাহিনী, রাণী ভবানীর প্রেম কাহিনী, আলাল-দুলালের কিচ্ছা, মদিনা সুন্দরীর প্রেমকাহিনী এগুলো বানিয়াচং এরই ইতিহাস ও ঐতিহ্য।

লোক কবি ও সাধকঃ বানিয়াচং গ্রামে যুগে যুগে অনেক লোক কবি জন্মগ্রহন করেছেন। এদেঁর মধ্যে মনসুর বয়াতী, মকরন্দ রায়, নবনারায়ন ভট্ট, এলাহী বক্স, মোহনলাল (ডাঃ মনীন্দ্র চন্দ্র পাল), মহিবুর রহমান, আখলাক হোসেন খান,মোঃ  শাহজাহান বিশ্বাস, শামসুল হক কোরেশী, কবি জয়তুন বিশ্বাস, মোঃ আবু মোতালেব খান এর নাম উল্লেখযোগ্য।

স্থাপত্য শিল্পঃ স্থাপত্য শিল্পের মধ্যে বানিয়াচং এর প্রাচীন ঐতিহ্য বহন করে ‘বিবিরমোকাম মসজিদ’(সর্বপ্রাচীন), ‘কালিকাপাড়া মসজিদ’,(১৫৫৬ সালের শেষদিকে), ‘২ নং হাবিলী মসজিদ’(অনুমান ১৬৮৫), ‘পুরানবাগ জামে মসজিদ’ (৯১৭ হিজরী সন), ‘চানপাড়া মসজিদ’ (ব্রিটিশ পূর্ব ধারণা), এছাড়াও এ গ্রামে শতবছরের পুরানো মন্দির পরিলক্ষিত হয়।

খেলাধূলা ও খেলোয়াড়ঃ এককালে বানিয়াচং ছিল বৃহত্তর সিলেট তথা আসাম ও বঙ্গদেশের খেলাধুলার এক উল্লেখযোগ্য পীঠস্থান। উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড় বি রায় চৌধুরী( ভূপেন্দ্র চৌধুরী, ১৯১৩-১৯৯২), এসকে চৌধুরি(১৯১৫-১৯৭৮) এই গ্রামের সন্তান। উল্লেখ্য বি রায় চৌধুরী ছিলেন ঢাকা একাদশের সেরা খেলোয়াড়, মোহনবাগান স্পোর্টিং ক্লাবের সাধারন সম্পাদক ও উপমহাদেশের সেরা লেফট আউট। আগরতলা স্পোর্টিং ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক, আসাম প্রদেশ স্পোর্টস এসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক, গৌহাটি মহারানা স্পোর্টিং ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক। বানিয়াচং গ্রামের আরও অনেক খেলোয়াড় ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রদেশে গৌরবের সাথে খেলাধূলা করে থাকেন। এদেঁর মধ্যে কবির উদ্দিন খান, সখায়েত হোসেন খান, এডভোকেট সাহাব উদ্দিন আহমেদ, বশারত আলী খান, আলতাফ উদ্দিন চৌধুরী, দিব্যেন্দু মহারত্ন রবি, ভানুদেবের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

স্পোর্টিং ক্লাবঃ বানিয়াচং এর প্রাচীন স্পোর্টিং ক্লাবদের মধ্যে এ পর্যন্ত যেসকল স্পোর্টিং ক্লাবের নাম উল্লেখযোগ্য সেগুলি হল-

আমবাগান স্পোর্টিং ক্লাব(১৯২৯), প্রতিষ্ঠাতা অধিনায়ক বশারত আলী খান,

নওজোয়ান স্পোর্টিং ক্লাব(১৯৩৪), প্রতিষ্ঠাতা অধিনায়ক আব্দুল বারী খান,

গ্রীনগার্ডস স্পোর্টিং ক্লাব(…..), প্রতিষ্ঠাতা অধিনায়ক কবি জয়তুন বিশ্বাস,

জুয়েল স্পোর্টিং ক্লাব(…..), প্রতিষ্ঠাতা অধিনায়ক তারাপদ মহারত্ন,

ইলাভেন সোলজার্স(১৯৮৮), প্রতিষ্ঠাতা অধিনায়ক মোঃ আবু মোতালেব খান,

সূর্যসেনা ক্রীড়া চক্র( ১৯৭৬), প্রতিষ্ঠাতা অধিনায়ক আমীর হোসেন,

প্রগতি ক্রীড়া চক্র (১৯৭৪), প্রতিষ্ঠাতা অধিনায়ক মোঃ আবু মোতাহেব খান।

এছাড়াও অনেক ক্রীড়া সঙ্গঠনের অস্থিত্ব পাওয়া যায়।

শিক্ষাবিদ ও গুণীব্যক্তিত্বঃ  পদ্মনাথ বিদ্যাবিনোদ, পরিব্রাজক রামনাথ বিশ্বাস, প্রফেসর মোঃ আলী, প্রফেসর ড. সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম, ড. এমএ কুদ্দুস, প্রফেসর জাহানারা খাতুন, ব্র্যাক প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ, বুদ্ধিজীবি সায়ীদুল হাসান, ডাঃ মুশাহিদ ঠাকুর, ডাঃ সাখাওয়াত হোসেন জীবন সহ অনেক গুনীজন এই গ্রামে জন্মগ্রহন করেন।

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বঃ  বাংলা গানের প্রখ্যাত শিল্পী রাখি চক্রবর্তী, বাংলাদেশের বিখ্যত আধুনিক গানের শিল্পী সুবীর নন্দী, মোঃ আবু মোতালেব খান, তাপস মহারত্ন, দিব্যেন্দু মহারত্নের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

সাহিত্য-সংস্কৃতির ব্যক্তিদের পরিদর্শনঃ বানিয়াচং মহাগ্রাম বহুযুগ পূর্ব থেকেই সাহিত্য সংস্কৃতির একটি উল্লেখযোগ্য স্থান। এখানে পল্লী গানের সম্রাট আব্বাস উদ্দিন আহমেদ ও পল্লী কবি জসীম উদ্দিন সহ বহুগুনী শিল্পীরা বিভিন্ন সময় এসেছেন। ১৯৪৮ সালে আব্বাস উদ্দীন ঐতিহাসিক এড়ালিয়া মাঠে পরিবেশন করেন – ১. ও বাজান চল যাই চল মাঠে লাঙ্গল বাইতে,

গরুর কাঁধে লাঙ্গল নিয়ে ঠেলতে ঠেলতে ঠেলতে…….

২. কোন রঙ্গে বাইন্ধাছ ঘরখানী মিছা দুনিয়ার মাঝে

গো সাঁইজী কোন রঙে ইত্যদি ইত্যদি।

( হবিগঞ্জ পরিক্রমা, পৃষ্ঠা- ৩৫৯, লেখক- আতাউর রহমান)

পল্লী কবি জসীম উদ্দীন ঐতিহাসিক সাগর দিঘীর পাড়ে বসে যে কবিতাটি লিখেছে তার বর্ণনা করেন সাবেক মন্ত্রী সিরাজুল হোসেন খান এভাবে- “ জার্মানী, ইটালী অক্ষশক্তি বিরোধী যুদ্ধ প্রচারনার জন্য পল্লী কবি জসীম উদ্দিনের নেতৃত্বে কলকাতা থেকে এক দল গায়ক আসলেন বানিয়াচং এ ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে। আমাদের হাই স্কুলে পরপর দু’দিন গানের আসর হল। দ্বিতীয় দিন সকালে জসীম উদ্দিন সাহেব ও আমি আমাদের বাড়ি থেকে সাগর দিঘীর পশ্চিম পাড় দিয়ে হাই স্কুলে যাচ্ছ। কতদূর যাওয়ার পর দিঘীর পাড়ে একটি পুকুরের কাছে দাঁড়িয়ে তিনি কি জানি চিন্তা করতে লাগলেন। কিছুক্ষন পর বললেন, একটা বসার কিছু ও টেবিল পাওয়া যাবে ? পাশের বাড়ি থেকে একটা চেয়ার ও ছোট একটা টেবিল আনিয়ে দিলাম। চেয়ারে বসে টেবিলে কাগজ রেখে তিনি একটি কবিতা লিখলেন সাগর দিঘীর উপরে। সেই তাঁর বিখ্যাত কবিতা – ‘কমলারাণীর দিঘী’ – যাকে ভিত্তি করে পরে একটি ছবি (ফিল্ম) হয়েছিল”। (শতবার্ষিকী স্মারকগ্রন্থ এল.আর উচ্চ বিদ্যালয় বানিয়াচং, পৃষ্ঠা-৬৪)।

‘কমলারাণীর দিঘী’ কবিতার প্রথম ও শেষ চরণগুলো –

প্রথমাংশ – “কমলারাণীর দিঘী ছিল এইখানে,

ছোট ছোট ঢেউগুলি ছুটি তটের পানে”।

শেষাংশ- “কোথায় ভট ব্রাহ্মন কোথায় গণক দল,

জলদি করিয়া গুণে দেখ,  দিঘীতে কেন উঠে না জল”।

[ উল্লেখ্য, সনটা ১৯৪২ এবং সিরাজুল হোসেন খান ঐ সনের ১৫ মার্চ হতে শুরুকৃত মেট্রিকোলেশন পরীক্ষায় অংশগ্রহনকারী ছাত্র। ]

 শেষ কথাঃ বানিয়াচং মহাগ্রাম বা পল্লীরাজ যা-ই বলা হোক না কেন বর্তমানে এটি উপজেলা সদর। এখানে অনেক পীর-ফকির, অলী-আওলিয়া সহ অনেক গুনী মানুষের জন্মস্থান। বানিয়াচং সম্পর্কে বিস্তারিত লিখতে হলে অনেক সময়ের-তথ্যের প্রয়োজন। বানিয়াচং কে নিয়ে রচিত হয়েছে অনেক রূপকথা, এখানে রয়েছে অনেকগুলো ঐতিহাসিক ঘটনা। যেহেতু অতি সংক্ষিপ্ত আকারে লিখা হয়েছে সেহেতু অনেক কিছুই বাদ পড়া স্বাভাবিক। সময়-সুযোগে লেখার বাসনা পোষন করছি। সেইসাথে এশিয়ার সর্ববৃহৎ গ্রাম বানিয়াচং পরিদর্শনে ভ্রমণকারীদের সাদরে আমন্ত্রন জানাচ্ছি।

সংগ্রহেঃ মোঃ আবু মোতালেব খান, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক উপদেষ্ঠা, হবিগঞ্জ ইনফো।

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান

 

সাতছড়ি সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান বাংলাদেশের একটি প্রাকৃতিক উদ্যান।

অবস্থানঃ হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার রঘুনন্দন পাহাড়ে অবস্থিত এই উদ্যান । বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা থেকে সড়ক পথে এর দূরত্ব ১৩০ কিলোমিটার। উদ্যানের কাছাকাছি ৯টি চা বাগান আছে। উদ্যানের পশ্চিম দিকে সাতছড়ি চা বাগান এবং পূর্ব দিকে চাকলাপুঞ্জি চা বাগান অবস্থিত। উদ্যানের অভ্যন্তরভাগে টিপরা পাড়ায় একটি পাহাড়ী উপজাতির ২৪টি পরিবার বসবাস করে। এই ক্রান্তীয় ও মিশ্র চিরহরিৎ পাহাড়ী বনভূমি ভারতীয় উপমহাদেশ এবং উন্দো-চীন অঞ্চলের সংযোগস্থলে অবস্থিত।

 উদ্ভিদবৈচিত্র্যঃ সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে রয়েছে প্রায় ২০০’রও বেশি গাছপালা। এর মধ্যে শাল, সেগুন, আগর, গর্জন, চাপালিশ, পাম, মেহগনি, কৃষ্ণচূড়া, ডুমুর, জাম, জামরুল, সিধাজারুল, আওয়াল, মালেকাস, ইউক্যালিপটাস,আকাশমনি, বাঁশ, বেত-গাছ ইত্যাদির বিশেষ নাম করা যায়।

 জীববৈচিত্র্যঃ এ উদ্যানে ১৯৭ প্রজাতির জীব-জন্তু রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৪ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ১৮ প্রজাতির সরিসৃপ, ৬ প্রজাতির উভচর। আরো আছে প্রায় ১৫০-২০০প্রজাতির পাখি। এটি বাংলাদেশের একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল এবং পাখিদের একটি অভয়াশ্রম। বনে লজ্জাবতী বানর, উল্লুক (Gibbon), চশমা পরা হনুমান (Langur), কুলু বানর (Macaque), মেছো বাঘ, মায়া হরিণ (Barking Deer) ইত্যাদি; সরিসৃপের মধ্যে সাপ; পাখির মধ্যে কাও ধনেশ, বনমোরগ, লালমাথা ট্রগন, কাঠঠোকরার, ময়না, ভিমরাজ, শ্যামা, ঝুটিপাঙ্গা, শালিক, হলুদ পাখি, টিয়া প্রভৃতির আবাস রয়েছে। এছাড়া গাছে গাছে আশ্রয় নিয়েছে অগণিত পোকামাকড়, ঝিঁঝিঁ পোকা তাদের অন্যতম।

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের ভিতর সাতটি ছড়া বা ঝর্না আছে যেখান থেকে এর নামকরণ করা হয়েছে সাতছড়ি। পর্যটকদের দৃষ্টি নন্দন স্থানের মধ্যে সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান একটি। দেশের ১০ টি জাতীয় উদ্যানের মধ্যে এটি অন্যতম। এর আয়তন ২৪২.৮২ হেক্টর বা ছয়শ’ একর। এটি রঘুনন্দন হিল রিজার্ভ ফরেস্টের একটি অংশ। ঢাকা থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার উত্তর-পুর্ব দিকে এবং শ্রীমঙ্গল থেকে ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান একটি ট্রপিকেল রেইন ফরেস্ট বা মিশ্র চির সুবুজ এবং পাতাঝরা বন। ইকো ট্যুর গাইডের সাহায্য নিয়ে জীব বৈচিত্র্যে ভরপুর সাতছড়ি উদ্যানে হাইকিং করলে অপূর্ব বনশ্রী হৃদয়ে দাগ কাটবে নিঃসন্দেহে। যা নিজের চোখে এবং বাস্তবে উপভোগ না করলে বোঝা সম্ভব নয়। হাজারো পর্যটক প্রাকৃতিক দৃশ্য পরিভ্রমণে আসেন।

এটির মধ্য দিয়ে পানিহীন ৭টি ছোট খাল বা ছড়া প্রবাহিত হয়েছে। যা বর্ষায় পানি এলেও তা শুকিয়ে যায়। তবে অবাক হওয়ার কথা, ছড়াগুলোর মধ্যে প্রকৃতি তার নিয়মে বিছিয়ে রেখেছে পানি বিহীন দুধের ন্যায় সাদা বালু। দুধ রং বালুর ওপর হেঁটে যেতে পারো উদ্যানের অভ্যন্তরে। তখন মনে হবে এ যেন প্রকৃতির সাদা গালিচার অভ্যর্থনা। ছড়ার পথে হাঁটতে হাঁটতে চারদিকে চোখ রাখলে দেখতে পাবেন বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষরাজি ও নাম না জানা অসংখ্য লতাপাতা। উল্লেখযোগ্য বৃক্ষের মধ্যে চাপালিশ, আউয়াল, কাঁকড়া, হারগাজা, হরতকি, পাম, লটকন, আমড়া, গামার, কাউ, ডুমর ইত্যাদি। এ বৃক্ষগুলোর ফল খেয়ে বনে বসবাসকারী প্রাণীরা বেঁচে থাকে। বনে বসবাসকারী প্রাণীদের মধ্যে রয়েছে উল্লুক, বানর, চশমা বানর, হনুমান ইত্যাদি। পাখিদের মধ্যে শ্যামা, ময়না, বসন্ত বাউরী, ফোটা কণ্ঠী সাতবাইলাসহ অচেনা অনেক পাখিরা তাদের সুমধুর ধ্বনিতে মুখরিত করে।

নিসর্গ সহায়তা প্রকল্পঃ   “নিসর্গ” নামের একটি এনজিও, বন বিভাগের পাশাপাশি, তাদের ‘নিসর্গ সহায়তা প্রকল্প’-এর অধীনে এই জাতীয় উদ্যানের দায়িত্ব পালন করে। নিসর্গের তত্ত্বাবধানে বন সংরক্ষণ ছাড়াও, বনে ইকো-ট্যুর পরিচালিত হয়। এছাড়া নিসর্গ প্রকল্পের অধীনে বিভিন্ন সৌখিন দ্রব্যাদির বিক্রয় হয়ে থাকে।

 

গ্রীনল্যন্ড পার্ক,

রানীগাও, চুনারুঘাট।

ইফতেখার আহমেদ ফাগুন, গ্রীনল্যান্ড পিকনিক এন্ড শ্যুটিং স্পটের গেট।

গ্রীনল্যান্ড বাংলো।  গ্রীনল্যান্ড শ্যুটিং, পিকনিক স্পট ও পার্কের গেট।

কিভাবে আসবেন- ঢাকা, সিলেট অথবা হবিগঞ্জ থেকে চলে আসুন শায়েস্তাগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা চত্ত্বরে। ঢাকা থেকে ১৬৮কিলোমিটার দূরে শায়েস্তাগঞ্জ আসতে পারেন বাসে অথবা ট্রেনে।  এরপর শায়েস্তাগঞ্জ থেকে ১২ কিলোমিটার দূর চুনারুঘাট যেতে হবে মাইক্রো অথবা সিএনজি ভাড়া নিয়ে। চুনারুঘাট থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে গ্রীনল্যান্ডে তখন পৌঁছে যাবেন সহজেই।

সবুজের একেবারে কাছাকাছি... ছবি- তিলোত্তম দেব রায়, নিউজ হবিগঞ্জ
DSCN1329

 

 

 

 

DSCN1327

গ্রীনল্যান্ডে যা যা উপভোগ করতে পারবেন-

  • এখানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য। সবুজের একেবারে কাছে চলে আসবেন আপনি।
  • দৃষ্টিনন্দন লেক সাঁতার কাটা সহ নৌকা দিয়ে ঘুরতে পারবেন।
  • পাখিপ্রেমীরা পাবেন বিভিন্ন প্রজাতির পাখির দেখা।
  • বিভিন্ন বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিত প্রজাতি সম্পর্কে জানতে পারবেন।

লেক ভিউ...ছবি- তিলোত্তম দেব রায়, নিউজ হবিগঞ্জ।

লেক ভিউ…ছবি- তিলোত্তম দেব রায়, নিউজ হবিগঞ্জ।

দূর থেকে বাংলো...ছবি- তিলোত্তম দেব রায়, নিউজ হবিগঞ্জ।

দূর থেকে বাংলো…ছবি- তিলোত্তম দেব রায়, নিউজ হবিগঞ্জ।

গ্রীনল্যান্ডের গাছের মোটামোটি তালিকা-

গ্রীনল্যান্ড। ছবি- তিলোত্তম দেব রায়, নিউজ হবিগঞ্জ

গ্রীনল্যান্ড। ছবি- তিলোত্তম দেব রায়, নিউজ হবিগঞ্জ

বাংলোর সামনে আবিদ খানের সাথে আমরা... ছবি- তিলোত্তম দেব রায়, নিউজ হবিগঞ্জ।

বাংলোর সামনে আবিদ খানের সাথে আমরা… ছবি- তিলোত্তম দেব রায়, নিউজ হবিগঞ্জ

আকাশী গাছ ২২০০০ টি, বেলজিয়াম গাছ ১৫০০০ টি, কাঁঠাল ৫০০০ টি, সুপারি ৫০০০ টি, উইপিং ২০০০ টি, লিচু ১৫০০ টি, নারিকেল ৫০০ টি, পেয়ারা ৫০০ টি, আম, আম্রপালী, ল্যাংড়া ও বারোমাসী ৫০০ টি, জলপাই ২০০ টি, পবনঝাউ ২০০ টি, সেগুন ৫০০ টি, লেমন গার্ডেন ও বিল্পুপ্তপ্রায় অনেক উদ্ভিদ।

গ্রীনল্যান্ডের প্রক্রিয়াধীন প্রকল্প-

  • গ্রীনল্যান্ড ডেইরী ফার্ম।
  • গ্রীনল্যান্ড পোল্ট্রি এন্ড ডার্ক ফার্ম।
  • গ্রীনল্যান্ড ব্যডমিন্টন, টেনিস এন্ড গলফ ক্লাব।
  • এছাড়াও সৌন্দর্য্যবর্ধন।

গ্রীনল্যান্ডের গেটে আমরা... ছবি- তিলোত্তম দেব রায়, নিউজ হবিগঞ্জ।

গ্রীনল্যান্ডের গেটে আমরা… ছবি- তিলোত্তম দেব রায়, নিউজ হবিগঞ্জ।

ছবি তুলতে ব্যস্ত বন্ধু...

কিভাবে আসবেন- ঢাকা, সিলেট অথবা হবিগঞ্জ থেকে চলে আসুন শায়েস্তাগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা চত্ত্বরে। ঢাকা থেকে ১৬৮কিলোমিটার দূরে শায়েস্তাগঞ্জ আসতে পারেন বাসে অথবা ট্রেনে।  এরপর শায়েস্তাগঞ্জ থেকে ১২ কিলোমিটার দূর চুনারুঘাট যেতে হবে মাইক্রো অথবা সিএনজি ভাড়া নিয়ে। চুনারুঘাট থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে গ্রীনল্যান্ডে তখন পৌঁছে যাবেন সহজেই।

খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা- পিকনিকে আসলে বা ঘুরতে আসলে আপনি নিজে খাবার নিয়ে আসতে পারেন। আর যদি এসব ঝামেলায় নাহ যেতে চান তাহলে কর্তৃপক্ষকে আগে থেকেই জানিয়ে রাখতে হবে খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা করার কথা। সেক্ষেত্রে কিছু টাকা খরচ করতে হবে আপনাকে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা-  গ্রীনল্যান্ডের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়াও আপনি চাইলে পুলিশ প্রহরাও নিতে পারেন।

স্পট খরচ- স্পটের ও নিরাপত্তা পরিষ্কার সংশ্লিষ্ট কাজে আপনাকে কিছু অর্থ খরচ করতে হবে।

গ্রীনল্যান্ড। ছবি- ইফতেখার ফাগুন, নিউজ হবিগঞ্জ।

গ্রীনল্যান্ড তত্ত্বাবধায়ক আবিদ খানের সাথে কথা বলতে বলতে ঘুরছেন নিউজ হবিগঞ্জের সাংবাদিক প্রতীক অধিকারী। ছবি- ইফতেখার ফাগুন, নিউজ হবিগঞ্জ।

গ্রীনল্যান্ডে ঘুরছি আমরা। ছবি- ইফতেখার ফাগুন, নিউজ হবিগঞ্জ।গ্রীনল্যান্ডে প্রবেশের রাস্তা...ছবি- ইফতেখার ফাগুন, নিউজ হবিগঞ্জ।

গ্রীনল্যান্ডে ঘুরছি আমরা। ছবি- ইফতেখার ফাগুন, নিউজ হবিগঞ্জ।

গ্রীনল্যান্ডে প্রবেশের রাস্তা…ছবি- ইফতেখার ফাগুন, নিউজ হবিগঞ্জ।

লেকের উপর বাঁশের সেতু। ছবি- গ্রীনল্যান্ড কর্তৃপক্ষ।

রাতের বাংলো। ছবি- গ্রীনল্যান্ড কর্তৃপক্ষ।

লেকের উপর বাঁশের সেতু। ছবি- গ্রীনল্যান্ড কর্তৃপক্ষ।

ছাউনী…ছবি- গ্রীনল্যান্ড কর্তৃপক্ষ।

রাতের বাংলো। ছবি- গ্রীনল্যান্ড কর্তৃপক্ষ।

বাংলোর উপর থেকে গ্রীনল্যান্ড। ছবি- গ্রীনল্যান্ড কর্তৃপক্ষ।

বাংলোর উপর থেকে গ্রীনল্যান্ড। ছবি- গ্রীনল্যান্ড কর্তৃপক্ষ।

গ্রীনল্যান্ড। ছবি- গ্রীনল্যান্ড কর্তৃপক্ষ।গ্রীনল্যান্ডের রাস্তার দুপাশে গাছের সারি... ছবি- তিলোত্তম দেব রায়, নিউজ হবিগঞ্জ।

গ্রীনল্যান্ড। ছবি- গ্রীনল্যান্ড কর্তৃপক্ষ।

Share on Facebook
Free WordPress Themes - Download High-quality Templates