Thursday , 13 December 2018
এই মূহুর্তেঃ-

তরফদার মো: ইসমাইল

তরফদার মো: ইসমাইল

যার আদর্শে ছিলাম উজ্জেবিত

আবুসালেহ আহমদ

 

হবিগঞ্জের সাহিত্য সংস্কৃতি অঙ্গনে অন্যন্যা ব্যাক্তিত্ব সংগঠক সমাজ সেবী  তরফদার মো: ইসমাইল আমাদের ছেড়ে গত ৩ রা ডিসেম্বর মঙ্গলবার সকাল ৭.২০ মিনিটে চলে গেছেন পরপারে। একজন গবেষক প্রাবন্ধিক তরফদার মো: ইসমাইল ছিলেন সকল শ্রেণীর পেশার মানুষের অত্যন্ত আপনজন । নম্র ভদ্র বিনয়ী আর আদর্শবান একজন সু পুরুষ। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তার সচেতনা ছিল অত্যন্ত তী। প্রতিটি ক্ষেত্রে বিশেষ করে চাকুরি শিক্ষা-সাহিত্য-সংস্কৃতি-ধর্ম কর্মে যে আদর্শ রেখেগেছেন তা সত্যই যুগযুগ ধরে প্ররণা দিয়ে যাবে নিঃসন্দেহে আমাদের।

তরফদার মো: ইসমাইল লিখেছেন অনেক কবিতা গল্প গবেষণা ধমী অনেক প্রবন্ধ। তার উল্লেখ যোগ্য গ্রন্থ হচ্ছে হবিগঞ্জের মরমী সাধক, ভাষা আন্দোলনে হবিগঞ্জ , সুফি দার্শনিক কবি শেখ ভানু। শেখ ভানু গ্রন্থটি ছিল তার গবেষণার একটি অন্যতম ফসল। এ গ্রন্থতের জন্য তিনি রাগিব রাবেয়া ফাউন্ডিশন থেকে পুরুষ্কার ও সম্মামনা পেয়েছেন এ ছাড়া ও জেলার সামাজিক সংস্থা তাকে সম্মানিত করেছে। বাংলা একাডেমি ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে লোক সংকৃতির আধুনিকায়ন প্রকল্পে জেলা ভিত্তিক একজন সম্মনয়কারী ও ৪জন (গবেষক) সাংগ্রাহক নির্বাচন করেছিল। তিনি ছিলেন উক্ত প্রকল্পের হবিগঞ্জ জেলার একজন সম্মনয়কারী। আমি বাংলা একাডেমি কৃর্তক জেলার একজন গবেষক হবার সুবাদে মাঝে মধ্যে বাসায় যেতাম। তার  গবেষণার কাজ কর্ম দেখে আশ্চর্য হতাম। গবেষণার অনেক উপাদান ও গ্রন্থ তার সংগ্রেহে ছিল যা আমাদের প্রকল্পকে সমবৃদ্ধি করেছে। কিন্তু গবেষনা শেষ হতে না হতেই হঠাৎ করে চলে গেলেন না ফেরার রাজ্যে। লোক সংস্কৃতির তথ্য সংগ্রহে হবিগঞ্জের অনেক এলাকায় গিয়েছি। বিশেষ করে কয়েক বার গিয়েছি আজমিরিগঞ্জ উপজেলায়। শুধু মাত্র লোক সংস্কৃতি তথ্য জন নয়, জলসুখা থেকে ঘাটু গান সংগ্রহ ও হুমায়ুন আহমেদের লেটুপুত্র কমলা ছায়াছবি প্রকাশের প্রতিবাদের মাল মসলা সংগ্রহ করা। আমারা অনেক কিছু সংগ্রহ করতে পেরেছিলাম। মৃত্যুর কারনে সংগ্রহ গুলো হয়ত বা চাপা পরে থাকবে অনেক দিন।

তরফদার মো: ইসমাইল দীর্ঘ দিন – হবিগঞ্জ সাহিত্য পরিষদ হবিগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমি সুরবিতান ললিতকলা একাডেমি, হবিগঞ্জ নজরুল একাডেমি, হবিগঞ্জ পৌর পাঠাগার সিএসজি রাজনগর মজসি কমিটি সহ আর অনেক গুরুত্ব পদে অধিষ্টিত ছিলেন। এবং এসব সংস্থা মাধ্যেমে সামাজিক কাজে অগ্রনী ভূমিকা রাখেন।

জনাব ইসমাইল ১৯৫১ সালের  হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট থানার দেওর গাছ গ্রামের সমান্ত জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মরহুম ইসহাক তফদার। তিনি শৈশব থেকে মৃত্যুর পূব পর্যন্ত শহরে রাজনগর বাসায় অবস্থান করতেন। মৃত্যুর তাকে হবিগঞ্জের শায়েস্তনগর কবর স্থানের দাফন করা হয়। আমরা তার আত্বার শান্তি ও বেহেস্থ কামনা করি।

 

লেখক

আবুসালেহ আহমদ

বাংলা একাডেমি লোকসংস্কৃতির জেলা গবেষক

Share on Facebook
Free WordPress Themes - Download High-quality Templates