Monday , 19 November 2018
এই মূহুর্তেঃ-

বিদায় স্কুলজীবন

933939_500100513399824_1107113216_nআজ যখন লিখতে বসেছি তখন মনে হচ্ছে কিভাবে যেন সাতটি বছর ক্রটে গেল। তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি পরিক্ষা দিয়ে এই ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপিঠ হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলাম আমরা ষাটটি সম্পূর্ণ অপরিচিত মুখ। আস্তে আস্তে সবাইকে চিনলাম। চতুর্থ শ্রেণিতে যোগ হল আরও কয়েকটি নতুন মুখ এবং ষষ্ঠ শ্রেণিতে উঠে যখন ১১৫ জন হলাম তখন হয়ে গেলাম প্রাণের বন্ধু। এই বিদ্যালয়ে কত শত স্মৃতি আমাদের আছে তা এত সংক্ষেপে বলা এক কথায় প্রায় অসম্ভব। ছোট থেকেই পড়ালেখার চেয়ে অন্যান্য কাজ আমি বেশি করে এসেছি তাই সকলের সাথে কাজ করার সুযোগ এসেছে। বিদ্যালয়কে দেখেছি, জেনেছি স্বাধীনভাবে। ক্লাস থ্রি থেকে সিক্স পর্যন্ত টিফিন টাইমটা কাটাতাম চোর-পুলিশ খেলে। আমি, রিশান, সায়মন দু’জন চোর, একজন পুলিশ। বেল পড়লে খেলা শেষ। পড়ালেখা না করায় প্রাথমিক বৃত্তি পরিক্ষায় প্রথম সারির সব ছাত্রের রোল ট্যালেন্টপুলে থাকলেও আমার রোলটি মাঝখান থেকে চলে যায় সাধারন গ্রেডে। সত্যি কথা বলতে কি আমি তখন বাংলা শব্দের অর্থও লিখতে পারিনি, ইংরেজি লেটার এর খামও এঁকে দিইনি। যেহেতু ছোট থেকেই সংগঠন করায় মনযোগ বেশি তাই ক্লাস সেভেনে উঠেই প্রথমে সাগর ও তূর্য’র সাথে গঠন করি ‘ঐতিহ্য নাট্য সংঘ’. এরপর রিশান, তূর্য, প্রতীক, ঈশান, নাবিল, স্বচ্ছ, সায়মন সবাই মিলে প্রতিষ্ঠা করি ‘ঐতিহ্য সাংস্কৃতিক ক্লাব’. সে বছর বিকেজিসি স্কুলে অনুষ্ঠিত আনন্দ মেলায় স্টল দিয়ে পুরষ্কারো পেয়ে যাই। এ বছর ক্লাবের ৪ বছর পূর্তি হল। ক্লাস সেভেন-এইট থেকেই আমরা কয়েকজন বন্ধু নাটক করতাম। আর নাটকের রিহার্সেলে সবচেয়ে বেশি মজা হত। ক্লাসে নাটকের কথা বলে চলে যেতাম অডিটরিয়ামে। তূর্য, প্রতীক, ঈশান, নাবিল, স্বচ্ছ, সায়মন, সাগর, রাজি সবাই সারাদিন অডিটরিয়ামে বসে থেকে বিকেলে বাসায় চলে যেতাম। নাটক তুলতে দুই দিন লাগলে সময় নিতাম দশদিন। ঈশান যে জুতা খুলে রাজিকে ‘উড়ন্ত লাথি’ দিত তা ভুলবার নয়। ক্লাস থ্রি থেকে নিয়মিত স্কাউটের সাথে যুক্ত ছিলাম। সেভেনে থাকতে স্কাউটে ছিলাম আমি, সায়ম্ন, সাকিব, রাব্বি, ঈশান, মঈন উদ্দিন, রামীম, এমরান, রবিউল, ইমরান সহ আরও অনেকে। ক্লাস এইটের প্রথম সাময়িক পরিক্ষার ফলাফল খুবই খারাপ হয়। দ্বিতীয় সাময়িক আরও। শেষ পর্যন্ত জে.এস.সি তে একটা ভাল ফলাফল করতে সক্ষম হই। ক্লাস নাইনে উঠে আবার শুরু হয়। বছরে প্রথমেই আমরা শুরু করি স্কুলের ওয়ালে ও রাস্তায় নকশা আঁকা। এতে আমাদের প্রধান শিক্ষকও উৎসাহ দিয়েছিলেন। বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতা, মিলাদ-মাহফিলে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে সবসময়ই থাকতাম, এমনকি স্বরস্বতী পূজায়ও দেখা যেত আমাকে। আমি ক্লাস থেকে পালিয়ে কখনও বাসায় চলে যাইনি। তবে কানেকটিং ক্লাসরুমে বা অডিটরিয়ামে বা রঙ করায় থেকে ক্লাস ফাঁকি দেয়ায় আমি, তূর্য, প্রতীক, দেব, সায়মন, নাবিল ছিলাম সবার আগে। ক্লাস এইটের প্রথম সাময়িকের পূর্বে আমি সম্পূর্ণ ক্লাস করেছি মাত্র দুই দিন( পিয়াল ও সৌরভের রেকর্ডমত)।

1477923_553089738100901_1610370975_n (1)১৬ই ডিসেম্বর ও ২৬শে মার্চে স্টেডিয়ামে দীর্ঘ সাত বছর হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় স্কাউট দলে থেকেছি। এবার হয়ত দাঁড়িয়ে তাদের উৎসাহ দিব। আনন্দ মেলার স্মৃতি এক কথায় আমাদের কাছে আলাদা। শিশু একাডেমি থেকে আয়োজিত আনন্দ মেলায় আমরা প্রতি বছরই স্টল দিয়েছি এবং নাটক দিয়েছি। আনন্দ মেলায় যে কত স্মৃতি রয়েছে তাও বলে শেষ করা যাবেনা। খেলাধুলা ব্যতীত সব কাজেই আমি জড়িত ছিলাম। তবুও সৌরভ, ঈশানের সাথে যে রিচি স্কুলেও খেলা দেখতে চলে যাইনি তা নয়। স্কুলে মোবাইল না নিষেধ। হেড স্যার আমাদের রুমে প্রায়ই চেক করতেন। আর সবচেয়ে বেশি চেক করা হয়েছে মন্টিকে। নতুন স্যাররা যখন মন্টির পুরো ব্যাগ ও শরীর চেক করে মোবাইল না পেয়ে চলে যেতেন তখন আমরা হেসে লুটোপুটি খেতাম। স্যার একদিন জানতে চেয়েছিলেন মোবাইল কোথায় রাখা হয়। আজ না হয় বলেই দিলাম………না থাক, বলি না……..ছোট ভাইদেরও হয়ত কৌশলটা কাজে লাগবে। এই স্কুলে আমি অনেক কিছু শিখেছি এবং এতদিন আমার জীবনটাই ছিল স্কুলকেন্দ্রিক, স্কুল জীবনের শেষ পর্যায়ে দাঁড়িয়ে আজ আমি সবাইকে বলছি-স্কুল জীবনের মজা জীবনের আর কোন পর্যায়ে পাব নাহ। সকল শ্রদ্ধেয় শিক্ষক ও আমাদের প্রধান শিক্ষককে জানাচ্ছি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। সেই সাথে হামিদ ভাই, সুন্দর ভাই, বেনু ভাই, জিতু ভাই, গিয়াস ভাই আর আফছার ভাইকেও ধন্যবাদ দিতে ভূল করছি নাহ।

Share on Facebook
Free WordPress Themes - Download High-quality Templates