Thursday , 13 December 2018
এই মূহুর্তেঃ-

জীবন সংকেত

নাট্যদল জীবন সংকেত নাটক ও গণচেতনার হাতিয়ার এই শ্লোগান নিয়ে তাদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন ত্রিলোক কান্তি চৌধুরী বিজন। জীবন সংকেত এর নামকরণ করেন অগ্রজ নাট্যকর্মী সৈয়দ এহসানুর রেজা খোকন। দলটির মনোগ্রাম অঙ্কন করেন স্বর্গীয় তরুণ শিল্পী জ্যোতির্ময় পাল স্বপন। এই নাম ও মনোগ্রাম নিয়েই দলটির এগিয়ে চলা। দলটি প্রতিষ্ঠালগ্নের পর পরই তাদের কর্ম প্রচেষ্টার ফলে ১৯৮৭ সালে বাংলাদেশ গ্র“প থিয়েটার ফেডারেশনের সদস্য পদ লাভ করে। এ বছরই তারা তাদের কার্টুন ও রম্য ম্যাগাজিন “বাঁশ” ও পত্রিকা আনন্দধারা অনিয়মিত সংখ্যা বের করে। জীবন সংকেত সভাপতি ত্রিলোক কান্তি চৌধুরী বিজন বাংলাদেশ গ্র“প ফেডারেশন আয়োজিত ১ম নাট্যকার নির্দেশক সেট লাইট ডিজাইন কর্মশালায় সিলেট বিভাগ থেকে একমাত্র নাট্যকর্মী অংশগ্রহণ করেন। তখন ৬৪টি জেলা থেকে মাত্র ২জন বাছাই করা হয়। ২য় কর্মশালায় প্রায় দীর্ঘদিন পর হবিগঞ্জ এর প্রবীণ নাট্যদল খোয়াই থিয়েটার কর্মী পার্থ সারথি রায় ও সংকেত কর্মী ইমতিয়াজ তুহিন অংশগ্রহণ করেন। ২য় কর্মশালায় ৬৪টি জেলা থেকে মাত্র ৩০জন কে বাছাই করে উচ্চতর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। জীবন সংকেত এর ইলিয়াস বখ্ত চৌধুরী জালাল, অধ্যাপক নাজমুল হক, সাব্বির আহম্মেদ, অনিরুদ্ধ ধর শান্তুনু, ত্রিলোক কান্তি চৌধুরী বিজন, মোস্তাকুর রহমান চৌধুরী, প্রদীপ ভট্টাচার্য্য রিংকু, মোস্তাক রহিম খান, মোঃ জাকারিয়া পলাশ, সৈয়দ বাকী ইকবাল, মিন্টু দাস, মনি শংকর দেব শামু, শেখ শাহার জামান, প্রশান্ত ভট্টাচার্য্য পিংকু, মামুন, জ্যোর্তিময় পাল স্বপন, অভিজিৎ চৌধুরী, শাহীন চৌধুরী সহ আরও বেশ কয়েকজন নবীন-প্রবীণ নাট্য কর্মীর অক্লান্ত পরিশ্রমে সামনের দিকে এগিয়ে চলছে।

নাট্যকর্মী সংগ্রহ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তারা নিয়মিত নতুন নাট্যকর্মী মঞ্চে আনছে। ফলে বেরিয়ে আসছে অনেক প্রতিভাবান নতুন মুখ। তারা মুক্ত চিন্তা মুক্তমননের অঙ্গীকার, এই শ্লোগানকে সামনে নিয়ে ১৯৯০ সালে আযোজন করে সপ্তাহ ব্যাপী নাট্য উৎসব ও গুণিজন সস্মাননা পদক প্রদান অনুষ্ঠান। এরপর পরই জীবন সংকেত বেশ কিছু তরুণ ও প্রবীন মেধাবী সৃষ্টিশীল নাট্যকর্মীর প্রচেষ্টায় একের পর এক নতুন নাটক হবিগঞ্জবাসীকে উপহার দেয় এবং ১৯৯৩ ও ১৯৯৭ সালে আয়োজন করে নাট্য উৎসব ১৯৯৯ সালে আয়োজন করে জাতীয় নাট্য উৎসব। জীবন সংকেত দেশের বিভিন্ন নাট্য উৎসবে সফলভাবে অংশগ্রহণ করে। দেশের বাইরে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের খোয়াই নগরীতে নাটক করে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে। তাদের বর্তমানে ৩৪তম প্রযোজনা চলছে। ৩৪টি নাটকের তারা প্রায় ৩০০টির উপরে প্রর্দশনী করেছে। তাদের উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো হলো রয়েল বেঙ্গল টাইগার, ফেরারী নিশান, ইঙ্গিত, কমলাবতীর পালা, বিভাজন স্ত্রীর পত্র প্রভৃতি। তার মধ্যে কমলাবতীর পালা ও বিবাজন নাটকটি বাংলাদেশ টেলিভিশনে মঞ্চ নাটক হিসাবে প্রচারিত হয়। ২০০১ সাল থেকে চলতি সময় পর্যন্ত জীবন সংকেত  বেশ কিছু সফল নাটক মঞ্চে আনে এর মধ্যে ৪ঠা মার্চ ২০০২এ রুমা মোদক রচিত ও অনিরুদ্ধ ধর শান্তুনু নির্দেশিত মৌলিক নাটক ‘বিভাজন’ উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে নতুন পুরাতন নাট্যকর্মী নিয়ে তাদের কর্ম প্রচেষ্টা চলিয়ে যাচ্ছে নিয়মিত। সম্প্রতি তারা মঞ্চে নাটক দড়ির খেলা ও কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর স্ত্রীর পত্র নামক ছোট গল্প অবলম্বনে স্ত্রীর পত্র মঞ্চস্থ করছে। ন্ত্রীর পত্র নাটকটির নাট্টরুপ দিয়েছেন রুমা মোদক ও নির্দেশনায় ছিলেন অনিরুদ্ধ ধর শান্তনু। বাংলাদেশ গ্র“প থিয়েটার এর আয়োজনে আয়োজিত নাট্য উৎসবে ঢাকার এক্সপেরিমেন্টাল হলে প্রর্দশিত করেছে বিভাজন। জীবন সংকেত থেকে সুবির কান্তি রায় (ভোলা) দক্ষিণ এশিয় নারী নাট্ট উৎসবে কলকাতা ও দিল্লিতে  ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের নাট্টকলা দলের সাথে বেহুলার ভাষান নাটকে তাল যন্ত্রে কাজ করে বেশ সুনাম আর্জন করে।

Share on Facebook
Free WordPress Themes - Download High-quality Templates